প্রচ্ছদ » খবর » বাংলাদেশ » স্কুল শিক্ষার্থী আনুশকার রহস্যজনক মৃত্যু নাকি পরিকল্পিত হত্যা ?

ঢাকা: ধানমন্ডির মাস্টারমাইন্ড স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী আনুশকা নূর আমিনের রহস্যজনক মৃত্যু নাকি পরিকল্পিত হত্যা ? তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা ।

ইতিমধ্যে এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে তার প্রেমিক দিহানকে। ফারদিনের তিন বন্ধুকে নিয়েও চলছে নানা আলোচনা ।

বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) ধানমন্ডির আনোয়ার খান মর্ডান হাসপাতাল থেকে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ দিকে নিহত স্কুল শিক্ষার্থী আনুশকার পরিবার জানান প্রভাবশালীদের চাপে পড়ে ফারদিন ইফতেখার দিহানের তিন বন্ধুকে আড়াল করার অভিযোগ করেছে ।

এমন অভিযোগ আনুশকার সহপাঠীদেরও। ধর্ষণের পর আনুশকার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এই তিনজনকে আসামি করা হয়নি।

যেভাবে মেয়েদের ফাঁদে ফেলতো দিহান

সূত্র জানায়, দিহান এর আগেও একাধিক মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক করে। দিহান মূলত তার বাবার প্রভাব প্রতিপত্তি, দামি গাড়ি এবং উপহার সামগ্রী দিয়ে মেয়েদের প্রভাবিত করতো। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দিহান এবং তার বন্ধুরাসহ বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী মিলে একত্রে একেক জনকে মারধর করা, স্কুলের বাইরে গিয়ে বিভিন্নজনকে হুমকি দেয়ার মতো ঘটনা ঘটিয়েছে।

স্কুল শিক্ষার্থী আনুশকার রহস্যজনক মৃত্যু নাকি পরিকল্পিত হত্যা ?

ঘটনার বিষয়ে তথ্য জানতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আনুশকার পরিবার বার বার প্রশ্ন তুললেও তদন্ত সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- প্রয়োজনে ওই তিনজনকে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ফারদিন ইফতেখার দিহানের সঙ্গে থাকা হুমায়েদ মিল্কি, অলভি মাহবুব এবং তাদের আরেক বন্ধুকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় হাসপাতালে থাকা ফারদিনের আরেক বন্ধুর বিস্তারিত নাম পরিচয় জানা যায়নি। গত বুধবার একটি ইংরেজি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে দিহানের সহযোগী হিসেবে হুমায়েদ মিল্কি, অলভি মাহবুব এবং মি. এক্স বলে উল্লেখ করা হয়। দিহানের তৃতীয় এই বন্ধুটিকে নিয়েই রহস্য ঘনীভূত হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফারদিনের তিন বন্ধুর মধ্যে দু’জনের পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড অনেক ভালো। তাদের মধ্যে একজন একটি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আত্মীয়। তারা দু’জন সম্পর্কে চাচাতো ভাই। ফারদিনের আরেক বন্ধু মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। তাদের দু’জনের বাসা ধানমন্ডি এলাকায় এবং আরেকজনের বাসা কলাবাগান থানাধীন ভূতের গলি এলাকায়। গ্রেপ্তারের পর দিহান জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, ঘটনার দিন ফারদিন প্রথমে তার এক বন্ধুকে ফোন দিয়ে জানায়, সে অসুস্থ দ্রুত হাসপাতালে আসতে হবে। পরবর্তীতে ওই বন্ধু তার অন্য দুই বন্ধুকে ফোন দিয়ে হাসপাতালে ডেকে আনে। তারা মূলত কেউ সরাসরি বন্ধু নয়। এক বন্ধুকে দিয়ে আরেক বন্ধুর সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছে তাদের।

স্কুল শিক্ষার্থী আনুশকার রহস্যজনক মৃত্যু নাকি পরিকল্পিত হত্যা ?

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) সাজ্জাদুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, নিহত শিক্ষার্থীর শরীরের উপরের দিকে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।

কলাবাগান থানার ওসি-তদন্ত আসাদুজ্জামান বলেন, আনুশকা নামের ওই শিক্ষার্থী তার প্রেমিক দিহানের বাসায় যান। সেখানে অজ্ঞান হয়ে পড়লে দিহান নিজেই তাকে হাসপাতালে আনেন। তাদের মধ্যে দুই মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে প্রাথমিকভাবে তিনি জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here