রাজনীতিই ছেলের জন্য কাল: সুদীপ্তর বাবা

নিহত সুদীপ্ত বিশ্বাস রুবেল(২৫) নগর ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক। তিনি নগরীর সদরঘাট থানার দক্ষিণ নালাপাড়া এলাকার বাবুল বিশ্বাসের ছেলে।

শুক্রবার সকালে নগরীর দক্ষিণ নালাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান সদরঘাট থানার ওসি মর্জিনা আক্তার।

নিহতের পরিবারের সদস্যদের কাছে জানা যায় , সকাল ৮টার দিকে সুদীপ্তকে কয়েকজন যুবক বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়।

পরে তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তবে কে বা কারা কি কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানাতে পারেননি ওসি।

হাসপাতালে সুদীপ্তের মা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সকালে সে ঘুমাচ্ছিল।

সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে বেশ কয়েকজন যুবক সুদীপ্তকে ডেকে দিতে পাশের বাসার এক নারীকে বলে।

“পরে তাকে ঘরের বাইরে বসা অবস্থায় খালি গায়ে পাওয়া যায়। শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা যাওয়ায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি।”

স্থানীয় কয়েকজন জানান, সকালে সাত থেকে আটটি অটোরিকশা করে বেশ কয়েকজন যুবক দক্ষিণ নালাপাড়া মসজিদের কাছে নেমে পায়ে হেঁটে সুদীপ্তের বাসার দিকে যায়।

এসময় বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলির আওয়াজও শোনা গেছে বলে জানান তারা। গুরুতর আহতাবস্থায় সুদীপ্তকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হয়।

ওই ওয়ার্ডের কর্তব্যরত চিকিৎসক সৈয়দ আফতাব উদ্দিন বলেন, সকাল ১০টার দিকে তাকে ওয়ার্ডে নিয়ে আসা হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

তিনি বলেন, তার শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত দেখেছি। পায়ের দিকেও ছোট কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

নগরীর টাইগার পাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক বাবুল বিশ্বাসের দুই ছেলের মধ্যে সুদীপ্ত বড়। তিনি সরকারি সিটি কলেজ থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মাস্টার্স শেষ করেছেন।

মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী ছিল।

সুদীপ্তের বাবা বাবুল বিশ্বাস  বলেন, “তাকে রাজনীতি না করার জন্য অনেকবার বলেছি। সে কারও কথা শোনেনি।”

রাজনীতিই তার ছেলের জন্য কাল হলো শেষ পর্যন্ত বলে মনে করেন তিনি।

Leave a Reply