ড্যান্ডির নেশায় আসক্ত রাজধানীর ছিন্নমূল শিশুরা
ক্যান্ডি নয়, ড্যান্ডির নেশায় বুঁদ

ড্যান্ডির নেশায় আসক্ত রাজধানীর ছিন্নমূল শিশুরা

ডাক নাম রুবেল। পুরো নাম শরীফ রুবেল। বয়স সাত বছর। এ বয়সে রুবেলের হাতে বই-খাতা থাকার কথা।

স্কুলে যাওয়ার পথে তার বাবা-মা আদার করে পছন্দের ক্যান্ডি কিনে দেওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতা বড়ই নির্মম।

রুবেলের হাতে ক্যান্ডি নয়, ঝুলছে ড্যান্ডি। ড্যান্ডির নেশা বুঁদ সকাল, বিকেল ও রাত। নেশার নাম ড্যান্ডি হলেও পুরো নাম ড্যানড্রাইট অ্যাডহেসিভ বা ড্যান্ড্রাইট আঠা।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, শুধু রুবেল নয়, রুবেলের মতো শতশত শিশু ড্যান্ডির নেশায় বুঁদ।

যে বয়সে শিশুরা মাঠে খেলাধুলা করা, পুকুরে সাঁতরানো কিংবা নিজের বাড়িতে বাবা-মার সঙ্গে শুয়ে গল্প শোনা।

সেই বয়সে ছিন্নমূল শিশুরা ঘুমাচ্ছে পথে পথে। শুয়ে থাকছে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে কিংবা ট্রেনের বগিতে।

দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কমলাপুর স্টেশনে রুবেল মানুষের ব্যাগ টেনে যে টাকা পায় তা দিয়ে ড্যান্ডি খাবার ও ড্যান্ডি কিনে।

পরে রাতভর বন্ধুদের সঙ্গে ড্যান্ডি টানে, আর ভোর হলে কমলাপুর স্টেশনে ঘুমিয়ে পড়ে। নেশার এই নীল ছোঁবলে অন্ধকার পথে হারিয়ে যাচ্ছে শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছে এরা।

নেশার টাকার জন্যে জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে। করছে ভিক্ষাবৃত্তিও।

চট্টগ্রাম: ‘শিশুরাই দেশের ভবিষ্যৎ’ কথাটি শুধু বই-খাতা আর বক্তৃতামালায় সীমাবদ্ধ। সর্বনাশা মাদক কেড়ে নিচ্ছে তাদের স্বপ্নময় শৈশব-কৈশোর।পথশিশুরা মাদকের টাকা সংগ্রহের জন্য জড়িয়ে পড়ছে চুরি, ছিনতাইসহ নানান অপরাধে। এ অবস্থা থেকে তাদের যেন ফেরানোর কেউ নেই।

এসব মাদকাসক্তদের কাছে সবচেয়ে ‘প্রিয়’ নেশার নাম ‘ড্যান্ডি’।  সহজলভ্য হওয়ায় নগর থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত ঘটেছে এর বিস্তৃতি।

ড্যান্ডির নেশায় বুঁদ রাজধানীর পথশিশুরা

২৪লাইভনিউজ – প্রতিনিধী জানান নগরের ছিন্নমূল শিশুরা ‘ড্যান্ডি’র নেশায় বেশি আসক্ত।

নিউ মার্কেট ফুট ওভারব্রীজ, কদমতলী বাসস্ট্যান্ড, রেল স্টেশন সড়ক, লালদীঘির পাড় এলাকা, পার্কসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন দেখা মেলে তাদের।

এসব শিশুর বয়স ১০ থেকে ১৬ বছর। প্রত্যেকের হাতে টোকাইয়ের ঝোলার পাশাপাশি দেখা যায় একটি পলিথিন।

কিছুক্ষণ পর পর মুখের সামনে পলিথিনটি ধরে শ্বাস নেয় তারা। পলিথিনের ভেতরে থাকে হলুদ রঙের কিছু বস্তু। এই নেশার নাম ‘ড্যান্ডি’।

ড্যান্ডির নেশায় আসক্ত রাজধানীর ছিন্নমূল শিশুরা

ঢাকার গুলিস্তান, খিলগাঁও, কমলাপুর, মালিবাগ, তেজগাঁও, রামপুরা এলাকা ঘুরে হাবিবের মতো আরও পথশিশুদের এভাবেই নেশা করতে দেখা যায়। পথশিশুদের কেউ কেউ দিনের বেলা নেশা করলেও বেশিরভাগই নেশা করে রাতে।

কেউ একা, আবার কেউ কেউ গোল হয়ে বসে সংঘবদ্ধ হয়ে নেশা করে। পলিথিন, প্লাস্টিক ছাড়াও নিজের পরিধেয় জামায় ড্যান্ডি গাম লাগিয়ে নেশা করে তারা। কিছুক্ষণ পর পর ঘ্রাণ নিয়ে নেশায় বুদ হয়ে যায় সুবিধাবঞ্চিত এই শিশুরা।

ড্যান্ডির নেশায় আসক্ত রাজধানীর ছিন্নমূল শিশুরা

চীনা সাইবার হামলায় অন্ধকার মুম্বই

মানুষের প্রধান মৌলিক খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা। পথশিশুদের এসব অধিকারের জায়গা নেই।

অথচ একটা শিশুর সবার আগে বাসস্থানের অধিকার, নিরাপত্তার অধিকার, খাদ্যের অধিকার রয়েছে, শিক্ষার অধিকার রয়েছে৷

এসব কিছুই কিন্তু পথশিশুদের জন্য প্রযোজ্য৷ কোনো অধিকারই তারা পাচ্ছে না।

পিতামাতাহীন পথশিশুদের ভবঘুরে জীবনযাপন রাস্তা-ঘাটে, রেলওয়ে স্টেশন, ফুটওভার ব্রিজ কিংবা ফ্লাইওভারে।

দিনের বেলায় ঘাড়ে বস্তা নিয়ে এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় প্লাস্টিকের বোতল কিংবা লোহা কুড়িতে ভাঙারির দোকানে বিক্রি করে পেট চালায়।

আর যে টাকা হাতে থাকে তা দিয়ে ড্যান্ডি কিনে নেশা করে। কেউ কেউ দিনের বেলা নেশা করলেও বেশিরভাগই নেশা করে রাতে। কেউ একা, আবার কেউ কেউ গোল হয়ে বসে সংঘবদ্ধ হয়ে নেশা করে।

ড্যান্ডি’র নেশায় আসক্ত ছিন্নমূল শিশু

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী আরটিভি নিউজ বলেন, ড্যান্ডি এক ধরনের নেশা।

নেশার প্রধান বৈশিষ্ট শরীরের ভেতরের যেসব কাজ কর্ম তা অভ্যস্ত করে তোলা। ফলে ড্যান্ডির নিয়ে পথশিশুদের মধ্যে এক ধরনের উৎসূক তৈরি হয়। একজন পথশিশু যখন ড্যান্ডিতে আসক্ত হয়, তখন অন্য শিশু মনে মনে ভাবে আসলে ড্যান্ডিতে আছে।

কৌতূহল থেকে আস্তে আস্তে ড্যান্ডিতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। এরফলে শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে।

রাজধানীসহ সারা দেশের পথশিশুদের নিয়ে সরকারের কাজ করার কথা।

কিন্তু এনজিওগুলো কিছুটা কাজ করলেও সরকারি সংস্থাগুলো ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দিন পার করে।

সরকারকে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে। পথশিশুদের সঠিকভাবে তৈরি করতে পারলে দেশের সম্পদ হবে।

24livenewsbd ~ Getting all breaking and latest news 24 live in Bangla/বাংলা on 24livenewsbd.সর্বশেষ,রাজনীতি, বিশ্ব,খেলাধুলা, বিনোদন সহ আরো অনেক ফিচার।

Leave a Reply