লেখক-ব্লগার অভিজিৎ হত্যার রায় আজ

অভিজিত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা আজ মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি)।

দু’পক্ষের যুক্ততর্ক শুনানি শেষে গত বৃহস্পতিবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান রাষ্ট্র ও আসামি পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার এ দিন ধার্য করেন।

এই রায় এমন এক সময় আসছে, যার মাত্র কয়েকদিন আগেই অভিজিৎ রায়ের বইয়ের প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যার দায়ে ৮ জনের ফাঁসির আদেশ হয়েছে।

২০১৫ সালে ঢাকায় বইমেলা থেকে বের হবার পর প্রকাশ্য রাস্তায় যেভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন অভিজিৎ, সেটা বাংলাদেশ তো বটেই, দেশের বাইরেও ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল।

গত বুধবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর গোলাম ছারোয়ার খান জাকির যুক্তিতর্ক শেষ করেন।

ওইদিন আসামিপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করলেও তা শেষ হয়নি।তাই গত বৃহস্পতিবার অসমাপ্ত যুক্তিতর্কের জন্য দিন রেখেছিলেন আদালত।

তাই গত বৃহস্পতিবার অসমাপ্ত যুক্তিতর্কের জন্য দিন রেখেছিলেন আদালত।

ব্লগার অভিজিৎ হত্যার রায় আজ

ব্লগার অভিজিৎ হত্যার রায় আজ
ব্লগার অভিজিৎ হত্যার রায় আজ

এ মামলার আসামিরা হলেন- বরখাস্ত হওয়া মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে শাহাব, মোজাম্মেল হোসেন ওরফে সাইমুম, আরাফাত রহমান ওরফে সিয়াম, শফিউর রহমান ফারাবী, আকরাম হোসেন ওরফে আবির ওরফে আদনান।

এদের মধ্যে মেজর জিয়া ও আকরাম পলাতক। তাই তারা আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য রাখতে পারেননি।

সেদিন যা ঘটেছিলো,অভিজিৎ হত্যার রায় আজ: ৬ আসামির ফাঁসি চায় রাষ্ট্রপক্ষ

সেই বইমেলা থেকে বেরিয়ে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের গেট পার হতেই হঠাৎ পেছন থেকে হামলার সম্মুখীন হন ব্লগার, লেখক অভিজিৎ রায়।

সেই সময় ঘটনাস্থলের অদূরে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের ভেতরেই ছিলেন ফটো সাংবাদিক জীবন আহমেদ।

পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ তিনি এভাবেই বর্ণনা করেছেন। “হঠাৎ প্রচণ্ড চিৎকার। আচমকা কাউকে জোরে আঘাত করলে যেরকম চিৎকার করে মানুষ সেরকমই। তখনো আমি বুঝি নাই বড় কিছু ঘটেছে। কিন্তু আমি ঘটনা দেখতে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের ভেতর থেকে বাইরে আসলাম।”‍‍‌‌

‌‌‍”কাছে গিয়ে ভীড় ঠেলে দাঁড়াতেই দেখি মাটিতে একজন পড়ে আছে, আরেকজন মহিলা পাশে মোটরসাইকেলের উপর পড়ে আছে। চারদিকে রক্ত। পাশে থেকে মানুষজন বলতেছিলো, চাপাতি দিয়া কোপাইছে।”

জীবন আহমেদ বলছেন, ঘটনার আকস্মিকতায় তিনি হতবিহ্বল হয়ে পড়েন।

কী করবেন বুঝে উঠতে পারছিলেন না। সকল মানুষ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলো সব। একপর্যায়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেন সাহায্য করার।

“আমি প্রথমে মহিলাকে ডাকলাম। তিনবার ডাকার পর তার চেতনা ফেরে।

তিনি উপুড় হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু চেতনা আসতেই যখন তিনি মাথা উঠিয়ে আমার দিকে ফিরলেন, আমি একটা শক খাইলাম। মুখে-শরীরে-হাতে ভয়াবহভাবে রক্ত লেগে আছে।”

সিরিজ ব্লগার হত্যাকাণ্ড

জীবন আহমেদ পরে জানতে পেরেছিলেন মহিলার নাম রাফিদা আহমেদ বন্যা।

জীবন আহমেদ জানান, চেতনা ফেরার পর বন্যা প্রথমে বুঝতে পারেননি কী হয়েছে।

পরে তাকে জানানো হলে তিনি চিৎকার করে অভিজিতের দিকে ছুটে যান।

এরপর হাসপাতালে নিতে মানুষের সাহায্য চাইতে থাকেন। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসে নি।

পরে জীবন আহমেদই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।

জীবন আহমেদ বলছেন, রাফিদা আহমেদ বন্যা সিএনজিতে ওঠার পরই সিটে হেলান দেয়া অবস্থায় জ্ঞান হারান।

কিছুক্ষণ পরই জ্ঞান ফিরে পান। কিন্তু তখন জীবন আহমেদকে আর চিনতে পারছিলেন না।

বরং তাকে হত্যাকারীদের সহযোগী ভাবছিলেন।

“জ্ঞান ফিরতেই তিনি খুব উচ্চস্বরে বলতেছিলেন, আপনি কে? এখানে কেন? কী চান?

আমি বললাম, আমি আপনাদের মেডিকেলে নিয়ে যাচ্ছি। উনি বলতে থাকলেন, আমি তো আপনার কোন ক্ষতি করিনি।

আমাদের কেন মারতেছেন? আপনার কত টাকা লাগবে? আমাদের ছেড়ে দেন ইত্যাদি।”

জীবন আহমেদ বলছেন, এরপরই বন্যা আবারো জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

একপর্যায়ে তাদের সিএনজি ঢাকা মেডিকেলে পৌছে যায়।

সে রাতে হাসপাতালেই মারা যান অভিজিৎ। গুরুতর আহত তার স্ত্রী বন্যা দীর্ঘ চিকিৎসার পর সেরে ওঠেন।

বাংলাদেশের ব্লগিং জগতে অভিজিৎ রায় ছিলেন পরিচিত নাম।

বিজ্ঞান, নাস্তিকতা এবং ধর্মবিশ্বাস নিয়ে তিনি একাধিক বইও লিখেছিলেন।

এসব বিষয় নিয়ে ‘মুক্তমনা’ নামে একটি কমিউনিটি ব্লগিং প্লাটফর্মের প্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন তিনি।

 অভিজিৎ হত্যার রায় আজ রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের

বৃহস্পতিবারে শুনানিতে বেশিরভাগ সময় নেন আসামিপক্ষের আইনজীবী। পরে রাষ্ট্রপক্ষ তাদের বক্তব্যের পাল্টা যুক্তি উপস্থাপনের সুযোগ পান।

আসামি শাফিউর রহমান ফারাবীর পক্ষে শুনানি করেন ঢাকা জেলা আইন সহায়তা সংস্থা (ঢাকা জেলা লিগ্যাল এইড) থেকে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী। পরে ফারাবী নিজেই বক্তব্য দেন।

আত্মপক্ষ সমর্থনে যে লিখিত বক্তব্য দিয়েছিলেন, তার পুনরাবৃত্তি করে এ মামলার দায় থেকে খালাস চান ফারাবী।

বিচারক তাকে বলেন, নাস্তিকরা পোকা মাকড়ের মত, তাদের মেরে ফেলা উচিৎ।

আপনার এ লেখায় এ মামলার আসামিসহ অনেকে উদ্বুদ্ধ হয়েছে। এ বক্তব্যের বিরোধিতা করে আদালতে কোনো প্রমাণ তো হাজির করতে পারেননি। আপনার বিরুদ্ধে তো প্ররোচনার দায় রয়েছে। চালাকি করে লাভ নেই।

ফারাবী তখন বলেন, আমার একমাত্র সৎ বোন ছাড়া আর কেউ নেই।

আমি অসহায়, টাকা পয়সা নেই। আমার সৎ বোন আমার খরচ দেয় না।

কারাগারে কেইস পার্টনারদের আত্মীয় স্বজনরা কত কিছু পাঠায়, আমাকে কেউ কিছু দেয় না।

আসামি আরাফাত রহমান সাজ্জাদ ওরফে শামস ওরফে সিয়াম তার আইনজীবীর মাধ্যমে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে খালাস চান।

খালাস চান আসামি মোজাম্মেল হোসেন সায়মনও। সায়মনের আইনজীবী নজরুল ইসলাম মাঝখানে বিরতি দিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বক্তব্য দেন।

তার সার কথা ছিল-রাষ্ট্রপক্ষ মামলা প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি বলেন তদন্তে ত্রুটি রয়েছে। ঘটনার কোনো চাক্ষুস সাক্ষী নাই।

লেখক-ব্লগার অভিজিৎ হত্যা মামলা

কোনো পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য ঘটনা প্রমাণ করেনি। শুধুমাত্র ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে সাজা দেওয়া যায় না।

এর আগে আরাফাত ও আবু সিদ্দিক সোহেলের আইনজীবী খায়রুল ইসলাম লিটন তার মক্কেলদের খালাস চেয়ে বিভিন্ন আইনি যুক্তি তুলে ধরেন।

পরে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি গোলাম ছারোয়ার খান জাকির উচ্চ আদালতের কয়েকটি সিদ্ধান্ত তুলে ধরে আসামিদের বক্তব্য খণ্ডন করেন এবং যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ করেন।

আসামিদের কয়েকজনের স্ত্রী-কন্যা এবং আত্মীয়-স্বজন এ সময় এজলাসে হাজির ছিলেন।

অভিজিতের ছোট ভাই অনুজিৎ রায় রায়ের দিন ঠিক হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমরা আশা করব, নিরাপরাধীরা যেন শাস্তি না পায়,

আর প্রকৃত অপরাধীরা যেন সাজার আওতায় আসে। নিশ্চয়ই বিচারে তা উঠে এসেছে।

বিচারক এটা দেখে বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ করেই রায় দেবেন। আমরা চাই, অভিজিতের প্রকৃত হত্যাকারীদের শাস্তি।

24livenewsbd ~ Getting all breaking and latest news 24 live in Bangla/বাংলা on 24livenewsbd.সর্বশেষ,রাজনীতি, বিশ্ব,খেলাধুলা, বিনোদন সহ আরো অনেক ফিচার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here